বাংলাদেশের বিপক্ষে টেন্ডুলকার ইতিহাস গড়লেন ঠিকই কিন্তু বাংলার টাইগারাও ইতিহাস গড়ল। ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপে ফাইনালে উঠার স্বপ্ন জিয়ে রাখল।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি ৩য় জয়। ২০০৪ ও ২০০৭ গর্জে উঠেছিল বাংলার টাইগারা তারই পর অপেক্ষা এই ক্ষণের জন্য।
টস কপালে মুশফিক টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিং এ পাঠায়। তখন মনে হয়েছিল সিদ্ধান্ত কি ঠিক হয়েছে? বিশাল ব্যাটিং লাইন আপে বলাররা কি চাপ সৃষ্টি করতে পারবে? পারেও নি। টেন্ডুলকার বাংলাদেশর বিপক্ষে প্রথম ও ইতিহাস গড়ার শতক তুলে নেন। যার সুবাদে ৫ উইকেটে ২৮৯ রান করে ভারত।
এই বিশাল রান ধাওয়া করতে নেমে প্রথমেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। তারপরও তামিম, জহুরুল ও নাসিরে অর্ধশতকের সুবাদে ৪৯ ওভার ২ বলে ৫ উইকেটে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টাইগারা।
বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্যটা ছিল পাহাড়সম। শুরুতেই হোঁচট খায় টাইগাররা। ১৫ রানে সাজ ঘরে ফেরেন ওপেনার নাজিমউদ্দিন। জহুরুলের সঙ্গে তামিমের ১১৩ রানের দ্বিতীয় জুটিতে বাংলাদেশকে আশা জাগায়। জহুরুল ৫৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তার আগে অবশ্য নিজের প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। এদিকে দেখেশুনে খেলতে থাকেন তামিম। জহুরুলের ৬৮ বলে ৫৩ রান করেন। যার মধ্যে ৪টি চার ও একটি ছক্কার মার ছিল।
চার নম্বরে খেলতে নামেন নাসির হোসেন। তৃতীয় উইকেটে তার সঙ্গে ২৮ রানের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তামিম। দলীয় ১৫৮ রানে প্রাভিন কুমারের বলে রবীন্দ্র জাদেজার দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ৭০ রানের ইনিংস আসে তামিমের ব্যাট থেকে। ৯৯ বলের ইনিংসটিতে ৬টি চার।
তামিমের বিদায়ের পর নামেন সাকিব। নাসিরের সঙ্গে মাত্র ৮ ওভারে ৬৮ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল করে তোলেন সাকিব আল হাসান। ৩১ বলে ৫টি চার ও দুটি ছক্কায় সাকিবের ৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি শেষ হয়েছে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে।
তারপর নাসির হোসেনের সঙ্গে মাত্র ৭ ওভারে ৬৪ রানের আরেকটি দুর্দান্ত জুটি গড়ে স্বাগতিকদের জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান মুশফিক। জয় থেকে মাত্র ২ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন নাসির (৫৪)। সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে বাকি কাজ সহজেই সেরে ফেলেন অধিনায়ক মুশফিক। বাংলাদেশ জয়ী হয় ৫ উইকেটে।
বাংলার টাইগাররা এই দিনে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় হারায় মাঞ্জারুল রানাকে। ম্যাচ শেষ তাই অধিনায়ক মুশফিক তার নামে ম্যাচ উৎস্বর্গ করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ৫০ ওভারে ২৮৯/৫ (গম্ভীর ১১, টেন্ডুলকার ১১৪, কোহলি ৬৬, রায়না ৫১, ধোনি ২১*, রোহিত ৪, জাদেজা ৪*; মাশরাফি ২/৪৪, শফিউল ১/২৪, রাজ্জাক ১/৪১)
বাংলাদেশ: ৪৯.২ ওভারে ২৯৩/৫ (তামিম ৭০, নাজিম ৫, জহুরুল ৫৩, নাসির ৫৪, সাকিব ৪৯, মুশফিক ৪৬*, মাহমুদুল্লাহ ৪*; প্রাভিন ৩/৫৬, জাদেজা ১/৩২, অশ্বিন ১/৫৬)
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান।



